বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫
Google search engine
Homeপ্রধানদেশের দীর্ঘতম ‘যমুনা রেল সেতু’র উদ্বোধন; ছুটল উদ্বোধনী ট্রেন

দেশের দীর্ঘতম ‘যমুনা রেল সেতু’র উদ্বোধন; ছুটল উদ্বোধনী ট্রেন

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম রেলওয়ে সেতু ‘যমুনা রেলসেতু’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রেলসেতুটি উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। উদ্বোধনী স্পেশাল ট্র্রেনটি মাত্র সাড়ে তিন মিনিটেই রেলসেতু অতিক্রম করে।

উদ্বোধন শেষে ১২টা ১২ মিনিটে নতুন সাজে সজ্জিত স্পেশাল ট্রেনটি সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ছয় বগির উদ্বোধনী স্পেশাল ট্রেনে অতিথিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যমুনা রেল সেতু অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ রেলস্টেশনে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

এই উদ্বোধনী ট্রেনটিতে দুই পাশে ২টি লোকোমেটিভ ইঞ্জিল, ৬ টা কোচের মধ্যে ২ টা এসি চেয়ার, ১টি শোভন কোচ, ১টি ডাইনিং কার, ১টি পাওয়ার কার রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. সাইদা শিনিচি, জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক মি. ইতো তেরুয়ুকি প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শরিফা হক, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান প্রমুখ।

৫০টি পিলার আর ৪৯টি স্প্যানের ওপর অত্যাধুনিক স্টিল প্রযুক্তির অবকাঠামোতে নির্মিত ডাবল লেনের সেতুটি জানান দিচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রার কথা। ৪.৮ কিলোমিটার ডাবল লাইন ডুয়েলগেজ সেতুটি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে ঢাকার সঙ্গে রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে।

এর আগে সকালে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেতু উদ্বোধন করেন- অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. সাইদা শিনিচি, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ (জাইয়া) মহাপরিচালক মি. ইতো তেরুয়ুকি।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ৩০০ মিটার উজানে দেশের দীর্ঘতম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের রেলওয়ে সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জাপানের আইএইচআই, এসএমসিসি, ওবায়শি করপোরেশন, জেএফই এবং টিওএ করপোরেশন—এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তিনটি প্যাকেজে সেতুর নির্মাণকাজ করে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেলওয়ে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে যমুনা সেতু নামকরণ হয়।

সূত্র জানায়, সেতুটি চালু হওয়ায় এখন উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ও রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রান্স এশিয়ান রেলপথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করবে। তাতে আমদানি-রপ্তানি খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি যমুনা সেতু ও মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে। যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে। আগে যমুনা সেতু দিয়ে ৩৮টি ট্রেন চলাচল করলেও নতুন সেতু দিয়ে ৮৮টি ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচলের আন্তসংযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments