একেকটা আইসিসি ইভেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের যতটা আগ্রহ থাকে, টুর্নামেন্ট শুরু হলে চলতে থাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। কারণ, আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের ভরাডুবি এখন নিয়মিত চিত্র। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আকরাম খানের মতে বাংলাদেশে মানসম্পন্ন ক্রিকেটারের অভাব রয়েছে।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের ভরাডুবি হচ্ছে। সেবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে ২ ম্যাচ জিতে কোনোরকমে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলা নিশ্চিত করেছে এশিয়ার দলটি। পরবর্তীতে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা জাগিয়েও বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। নেপালের বিপক্ষে জিততেও বাংলাদেশের ঘাম ছুটে গিয়েছিল। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ২ ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা তো বাদই থাক।
বাংলাদেশ যেখানে গত ১৭ মাসে লাগাতার খারাপ করছে, সেখানে প্রতিবেশী ভারত আইসিসির তিনটি টুর্নামেন্টেরই ফাইনালে উঠেছে। যার মধ্যে একটিতে চ্যাম্পিয়ন। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জসপ্রীত বুমরার মতো তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও ভারত সেটার অভাব বোধ করছে না। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেলের মতো অলরাউন্ডাররা নিয়মিত পারফর্ম করছেন। বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়াররাও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। বাংলাদেশ ক্রিকেট কোথায় ধুঁকছে, সেটার ব্যাখ্যায় মিরপুরে আজ সংবাদমাধ্যমকে আকরাম বলেন, ‘নিজ থেকে যদি উন্নতি না করেন, তাহলে আপনি ভালো ক্রিকেটার হতে পারবেন না। ভালো ক্রিকেটার হতে পারবেন কিন্তু মানসম্পন্ন ক্রিকেটার লাগবে। বাংলাদেশে এখন সমস্যা যেটা, আমাদের ভালো ক্রিকেটার অনেক আছে কিন্তু কোয়ালিটি ক্রিকেটার অনেক কম। যেটা (কোয়ালিটি ক্রিকেটার) অন্য দেশে অনেক বেশি।’
২০২৩ বিপিএলে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এক ম্যাচে ৭৭ রান করলেও অনেক ডট বল দিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কীভাবে খেলতে হবে, সেই স্কিলে উন্নতি করাটা জরুরি মনে করছেন আকরাম। বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘আমরা হয়তোবা ঘরোয়া ক্রিকেট, বিপিএলে কিছু রান করে মনে করি অনেক ভালো ক্রিকেটার হয়ে গিয়েছি। আসলে নিজেদেরই চিন্তা করা উচিত। আমরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলব, কত মাইল বেগের বল মোকাবিলা করব, কী স্পিনারদের মোকাবিলা করব এগুলো সবই আসলে চিন্তার ব্যাপার এবং এগুলো উন্নতি করলেই একটা ভালো পর্যায়ে যাব। যেটা বললাম, দুই দিক থেকেই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। ক্রিকেট বোর্ডের লাগবে, ক্রিকেটারেরও লাগবে।’
তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ—এই পঞ্চপান্ডবরা অনেক ম্যাচ বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। বর্তমানে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহই শুধু আছেন। আকরামের মতে অতীতে কম সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা নিজ চেষ্টাতেই গড়ে উঠেছেন। বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘দিনে দিনে বাংলাদেশের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। যদি আপনি সেভাবে চিন্তা করেন, এখনকার তুলনায় ১৫ বছর আগের সুযোগ-সুবিধা অনেক কম ছিল। তখন তো আমাদের তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ, মাশরাফি, আশরাফুল তারা কিন্তু বের হয়ে এসেছে। তারা বের হয়ে আসার একমাত্র কারণ ব্যক্তিগতভাবে অনেক উন্নতি তারা করেছে। ক্রিকেট বোর্ড যতটুকু পারে, আপনাকে সাহায্য করবে।’
এ বছরের ১০ জানুয়ারি ফেসবুকে এক ঘোষণায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি বিপিএল ফাইনালে তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডে তামিমকে দরকার কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে আকরাম বলেন, ‘বোর্ডে এটা নির্ভর করে, কে কীভাবে যেতে চায়। যেমন আমার ইচ্ছে ছিল, খেলার পর বোর্ডে আসার। আমি ক্রিকেট বোর্ডে এসেছি। অনেকে আসেনি। হয়তো তাদের আগ্রহ নেই।’
কপিঃ আজকের পত্রিকা